রাজনীতি ডেস্ক
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় কার্যক্রমে গতিশীলতা ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এই তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম। তৃণমূলের এই সাংগঠনিক সভায় তিনি দলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম দলের আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের জন্য এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা মাঠপর্যায়ে সবসময় সময় দিতে পারবেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের পাশে থাকবেন। তিনি আরও দাবি করেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার মাধ্যমেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করা সম্ভব। নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বই তৃণমূলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পৃথিমপাশা ইউনিয়ন বিএনপির এই সভায় স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি, পৃথিমপাশা ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। সভায় বক্তারা তৃণমূলের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে যেকোনো দলের মূল ভিত্তি হলো তৃণমূলের কর্মীবাহিনী। কুলাউড়ায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থানীয় রাজনীতিতে দলটির সাংগঠনিক অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করতে পারে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ত্যাগী ও সক্রিয় নেতৃত্বের ওপর জোর দেওয়ার এই আহ্বান আগামীতে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও পর্যায়ক্রমে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হবে। সামগ্রিক এই সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।