ময়মনসিংহ — জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সরকারের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। দেশের নারী প্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।
কর্মসূচির পরিধি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই কল্যাণমূলক উদ্যোগটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা জাতিগত বর্ণ বিবেচনা করা হয়নি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য পরিবারগুলোকে এই কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের একটি করে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে দেশের সবকটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নান্দাইলের চরভেলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।
আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা সঞ্চার হবে।