আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তিউনিসিয়া ও তুরস্ক আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও চন্দ্র মাস গণনার ভিত্তিতে দেশ দুটি এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলতি বছরের ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। তিউনিসিয়ার জাতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে পবিত্র জিলহজ মাস শুরু হচ্ছে। এই হিসাবের ওপর ভিত্তি করেই আগামী ২৭ মে দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, বৈশ্বিক পর্যায়ে তিউনিসিয়াই প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, তুরস্কের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও একই দিনে ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা প্রদান করেছে। তবে তুরস্কের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি ভিন্ন। দেশটি সাধারণত খালি চোখে বা দূরবীক্ষণের সাহায্যে চাঁদ দেখার প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও নিখুঁত জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গণনার ভিত্তিতে তাদের ধর্মীয় উৎসবের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে। আধুনিক প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণার তথ্যের আলোকে আগে থেকেই এই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়, যা এবার তিউনিসিয়ার চাঁদের হিসাবের সঙ্গে মিলে গেছে।
এদিকে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ আজ রবিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, হিজরি ১৪৪৭ সালের ২৯ জিলকদ অর্থাৎ আজ রবিবার সন্ধ্যায় তারা বিশেষ বৈঠকে বসবে। সেখানে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে এবং সেই অনুযায়ী আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আর আজ চাঁদ দেখা না গেলে জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে এবং ঈদ একদিন পিছিয়ে ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে থাকে। সেই হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আজকের সিদ্ধান্তের ওপর বাংলাদেশের ঈদের সম্ভাব্য তারিখও অনেকাংশে নির্ভর করছে। তিউনিসিয়া ও তুরস্কের এই আগাম ঘোষণার পর এখন মুসলিম বিশ্ব জুড়ে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার দিকে নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় শিক্ষাবিদেরা।