সারাদেশ ডেস্ক
নীলফামারী-সৈয়দপুর রেলপথে রেললাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘খুলনা মেইল’ ট্রেনটি উদ্ধারের পর এই রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আজ রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের চাকা রেললাইনে টেনে তোলার পর ট্রেন যোগাযোগ সচল হয়। এর আগে সকাল সোয়া ৮টার দিকে খয়রাত নগর রেলস্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, যার ফলে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সোয়া ৮টার দিকে খুলনা অভিমুখে যাত্রা করা ‘খুলনা মেইল’ ট্রেনটি নীলফামারীর খয়রাত নগর রেলস্টেশন এলাকা অতিক্রম করার সময় আকস্মিকভাবে রেললাইনের ওপর ভেঙে পড়া একটি বড় গাছের ডালের সাথে ধাক্কা খায়। তীব্র ধাক্কায় চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনের দুটি চাকা রেললাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। লাইনের ওপর ট্রেনটি আড়াআড়ি আটকে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে নীলফামারী ও সৈয়দপুরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার সমস্ত রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর জংশন লোকোশেড থেকে একটি উদ্ধারকারী বিশেষ রিলিফ ট্রেন (উদ্ধারকারী ক্রেনসহ) দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উদ্ধারকারী দল ও প্রকৌশলীরা বেলা ১০টার দিকে খয়রাত নগর এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। লাইনচ্যুত ভারী ইঞ্জিনটি লাইনে ফিরিয়ে আনতে এবং রেললাইনের ওপর থেকে গাছের ডালপালা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করতে উদ্ধারকারী দলের প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। দুপুর দেড়টার দিকে লাইনচ্যুতির মেরামত কাজ শেষ হলে দুর্ঘটনাকবলিত খুলনা মেইল ট্রেনটি পুনরায় খুলনার উদ্দেশ্যে খয়রাত নগর স্টেশন ছেড়ে যায়।
নীলফামারী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মিঠুন রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রেললাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ে থাকার কারণে ইঞ্জিনের সামনের দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছিল। তবে ট্রেনটির গতিসীমা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধার কাজ সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর এই রেলপথের ওপর দিয়ে বর্তমানে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং অন্যান্য ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা চলছে।
রেলওয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা বা ঝড়ের মৌসুমে রেললাইনের আশেপাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা নিয়মিত ছাঁটাই না করার কারণে প্রায়শই এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এই ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে কয়েক হাজার যাত্রী দীর্ঘ সময় স্টেশনে এবং মাঝপথে ট্রেনের ভেতর অপেক্ষা করতে বাধ্য হন, যা শিডিউল বিপর্যয় ডেকে আনে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইনের দুই পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা নিয়মিত তদারকি ও অপসারণ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।