সারাদেশ ডেস্ক
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুর অংশের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের পুলিয়া নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে একটি মালবাহী কাভার্ড ভ্যানকে পেছন থেকে একটি পিকআপ ধাক্কা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন পিকআপ চালক প্রবীর রায় চৌধুরী (৩৬) ও সহকারী জুয়েল (১৭)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার শিশির কুমার রায় চৌধুরীর ছেলে প্রবীর রায় চৌধুরী এবং কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আব্দুল হাকিমের ছেলে জুয়েল দুধ ও মিষ্টি বোঝাই একটি পিকআপ নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে পিকআপটি সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে চালক ও সহকারী ভেতরে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনা কবলিত কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপটি পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
সড়ক সংশ্লিষ্টদের মতে, এক্সপ্রেসওয়েতে ভোরে কুয়াশা বা চালকের ক্লান্তির কারণে দূরপাল্লার যানবাহনের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটছে। বিশেষ করে দ্রুতগতিতে চলাচলের সময় সামনের গাড়ির সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখায় প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় অধিকতর সতর্ক থাকার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।