বিনোদন ডেস্ক
দক্ষিণ ভারতের বহুল আলোচিত তামিল চলচ্চিত্র ‘কারুপ্পু’র মুক্তি ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অনিবার্য কারণবশত সকালের প্রদর্শনী বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রদর্শনীর অনুমতি থাকা সত্ত্বেও এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দর্শকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সিনেমাটির প্রযোজক এস আর প্রভু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তার মাধ্যমে জানান, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে আজ সকাল ৯টার প্রদর্শনীগুলো বাতিল করতে হচ্ছে। এর আগে গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সিনেমাটির জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর অনুমতি দিয়েছিলেন। তামিলনাড়ু সরকারের বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী, সাধারণত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ভোর বা সকালে শোর অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে ‘কারুপ্পু’র গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার প্রথম দুদিনে পাঁচটি করে প্রদর্শনীর অনুমতি দিয়েছিল। সরকারের এই নমনীয় অবস্থানের পরও শেষ মুহূর্তে শো বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির মুক্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং অনলাইন বুকিংয়ে বিভ্রাট দেখে পরিচালক আরজে বালাজি বুধবার রাতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তিনি ভক্তদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেন, গত ৩২ মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রযোজনা সংস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তবে এই যান্ত্রিক বা কৌশলগত জটিলতা শুধুমাত্র তামিলনাড়ুর প্রেক্ষাগৃহগুলোর জন্য নাকি অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, সে বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।
আরজে বালাজির রচনা ও পরিচালনায় ‘কারুপ্পু’ সিনেমাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সুরিয়া ও অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ইন্দ্রানস, নাটি এবং সোয়াসিকা। সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন সাই অভয়ঙ্কর। বড় তারকাদের সমাগম ও দীর্ঘ নির্মাণকাল মিলিয়ে সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
এদিকে মুক্তির শুরুতেই এমন অব্যবস্থাপনার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ শো বাতিলের প্রতিবাদে সিনেমার মুক্তি সাময়িক স্থগিত রাখারও দাবি তুলেছেন। সকাল ৯টার প্রদর্শনী বাতিলের পর পরবর্তী নির্ধারিত শো-গুলো যথাসময়ে শুরু হবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রেক্ষাগৃহ মালিক ও পরিবেশকদের মতে, কারিগরি ত্রুটি বা লাইসেন্সিং সংক্রান্ত কোনো জটিলতার কারণে এমনটি ঘটে থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় সাধারণ দর্শক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযোজনা সংস্থা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সিনেমাটির ব্যবসায়িক সাফল্যে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।