বাংলাদেশ ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে চলমান বিভিন্ন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ড. আসিফ নজরুল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের উচ্চশিক্ষা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা নিরসনে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
বিবৃতিতে ড. আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে নিয়মিত আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রায় মাস দুয়েক ক্লাসও করেছেন। আসিফ নজরুল তখন আইন বিভাগের উপরের ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং সেই সুবাদে বিষয়টি তাঁর প্রত্যক্ষভাবে জানা ছিল বলে জানান।
তারেক রহমানের তৎকালীন সহপাঠীদের পরিচয় উল্লেখ করে আসিফ নজরুল আরও জানান যে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিবর্গ তাঁর ব্যাচমেট ছিলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বর্তমান বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি তারেক রহমানের ছাত্রত্বের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।
তারেক রহমানের পড়াশোনা অব্যাহত না থাকার কারণ হিসেবে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি আলোকপাত করেন আসিফ নজরুল। তিনি জানান, সেই সময় দেশে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামল চলছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও সন্দেহ বিদ্যমান ছিল। রাজনৈতিক বৈরিতা এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তারেক রহমানের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই তাঁর শিক্ষা জীবনের সেই অধ্যায়টি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ছাত্রত্ব নিয়ে প্রায়শই বিভিন্ন মহলে নানাবিধ বিতর্ক ও আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এই বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসিফ নজরুলের এই তথ্য প্রদান দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নথি ও সমসাময়িক ইতিহাসের আলোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসিফ নজরুলের মতো একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং আইন বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে চলমান সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাবে। এটি একইসাথে সে সময়ের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের নিরাপত্তা সঙ্কটের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনটি তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্রেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভর্তির তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত বিষয়ের তথ্যভিত্তিক সমাধান পাওয়া গেল।