সারাদেশ ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাসান খান (৮৪) নামে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে ওই ব্যক্তির নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত হাসান খান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং সৈয়দপুর গ্রামের মৃত ইয়াসিন খানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজদিখান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সৈয়দপুর এলাকায় মাদকের একটি চালান হাতবদল হতে যাচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে বিকেল চারটার দিকে হাসান খানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তল্লাশিকালে তার হেফাজত থেকে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে মজুদ করা হয়েছিল।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক হাসান খান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। তিনি এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বার্ধক্যের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
ওসি আরও জানান, হাসান খানের অপরাধলব্ধ ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, তার বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় ইতিপূর্বেও একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। বারংবার আইনের আওতায় এলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতেন। সর্বশেষ এই আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রামীণ পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং সাবেক জনপ্রতিনিধিদের এই ধরণের অপরাধে সম্পৃক্ততা তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিরাজদিখান থানা পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় মাদকের সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে তাদের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।