রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বেগুনবাড়ি এলাকায় লরির চাপায় মো. নুরে আলম হোসেন নয়ন (১৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সোয়া ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নয়ন পেশায় একজন ইঞ্জিন মিস্ত্রি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে নয়ন তার মোটরসাইকেল চালিয়ে তেজগাঁও বেগুনবাড়ি দিবিকার মোড় এলাকার বাসার দিকে ফিরছিলেন। পথে একটি অজ্ঞাত মোটরসাইকেল তার বাহনটিকে ধাক্কা দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। এসময় পেছনে থাকা একটি মালবাহী লরি তাকে চাপা দেয়। লরিটির পেছনের চাকা তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেলে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট লরির চালক নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নুরে আলম হোসেন নয়ন চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার নীলকমল গ্রামের আব্দুল আলিমের সন্তান। তিনি পরিবারের সঙ্গে তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি স্থানীয় ‘এএম খান কোম্পানি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিন মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, যে প্রতিষ্ঠানের লরির চাপায় তার মৃত্যু হয়েছে, তিনি সেই একই প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পিতা আব্দুল আলিম জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকালেও নয়ন মোটরসাইকেল নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কাজ শেষ করে ইফতারের পরবর্তী সময়ে বাসায় ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার সংবাদ পান। ছেলের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন হওয়ায় তার মৃত্যুতে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তেজগাঁও এলাকার ট্রাফিক ও স্থানীয় থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ঘাতক লরিটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালক নজরুল ইসলাম নিজেই আহত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রাজধানীর তেজগাঁও ও এর আশপাশের শিল্প এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই এ ধরনের ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সরু রাস্তাগুলোতে মালবাহী লরি ও কাভার্ড ভ্যানের অবাধ যাতায়াত এবং মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতির কারণে সাধারণ পথচারী ও চালকদের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করছে।