আবহাওয়া ডেস্ক
দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের সই করা বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া নিয়মিত আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোনো কোনো স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা কিংবা লঘুচাপের প্রভাবের ফলে সৃষ্ট এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে নদীবন্দরের নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঝোড়ো হাওয়ার সময় ছোট নৌযানগুলোর ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সাধারণত এই সময়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা বাতাসের গতিবেগ ও বজ্র মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কৃষি ও জনজীবনের ওপর বৃষ্টির ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও অতি ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি অঞ্চল বা নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।