শিক্ষা ডেস্ক
২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনার বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতামত গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় অধিকাংশ অংশীজন পরীক্ষার সময়সূচি হঠাৎ চার মাস এগিয়ে আনার সরকারি প্রস্তাবের বিপক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। অংশীজনদের পক্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনঃসমন্বয় করার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং অভিভাবকরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য মানসিক ও একাডেমিক চাপের বিষয়টি। অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন যে, হুট করে পরীক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনলে পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত অংশীজনদের বড় একটি অংশ মনে করেন, এক বছরেই চার মাস সময় সংকুচিত না করে প্রতি বছর এক মাস করে সময় এগিয়ে এনে দীর্ঘমেয়াদী সমন্বয়ের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যৌক্তিক হবে। এতে শিক্ষার্থীরা পরিবর্তিত সময়সূচির সঙ্গে মানসিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশের অভিমত অনুযায়ী ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা এপ্রিলে নেওয়ার বিষয়টি অধিকতর বাস্তবসম্মত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সভায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী আসন্ন বছরের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করা গেলে রোজার পূর্বেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তামান্না বেগম বলেন, এসএসসি পরীক্ষা দ্রুত শেষ হওয়া ইতিবাচক হলেও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করা জরুরি। ফরম পূরণ পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রস্তুতির সুযোগ দিতে মার্চ বা এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি ফলপ্রসূ হবে।
সার্বিক মতামতের প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সরকার সকল পক্ষের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ২০২৭ সালেই ডিসেম্বরে পরীক্ষা সম্পন্ন করার সক্ষমতা এবং এর বিপরীতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় নিয়ে ধাপে ধাপে সমন্বয় করার দুটি দিকই পর্যালোচনায় রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সুরক্ষা ও একাডেমিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন জানান, অংশীজনদের প্রদত্ত প্রস্তাবনা ও যুক্তিসমূহ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।