1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কার্যক্রম সীমিত করছে এয়ার ইন্ডিয়া: ঢাকা-মুম্বাইসহ একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট স্থগিত ডিসেম্বরের মধ্যে ময়মনসিংহে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর ৫৫ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন, মৃত্যু ১৪ জনের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ৬ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের বার্তার নিরাপত্তা বাড়াতে আরসিএস প্রযুক্তিতে যুক্ত হলো এনক্রিপশন ১২ সিটি করপোরেশনে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত ওমানে চার বাংলাদেশি সহোদরের রহস্যজনক মৃত্যু, শোকের ছায়া রাঙ্গুনিয়ায় বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির এমসিকিউ পরীক্ষা ১২ জুন অভিনেত্রী মৌনী রায়ের দাম্পত্য বিচ্ছেদের গুঞ্জন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অনফলো

দেশের ৬৫ এলাকায় নির্বাচন কমিশনের ভবন নির্মাণ ও সরঞ্জাম সুরক্ষা প্রকল্প একনেকে ফেরত

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং নির্বাচনি সরঞ্জামাদির নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প ফেরত দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ থেকে উত্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর সচিবালয়ে কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি পর্যালোচনার পর ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

একনেকের কার্যপত্র ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটির কাঠামো এবং সরকারি দপ্তরের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সভায় কিছু মৌলিক পরিবর্তনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১টি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ও ৩টি জেলা নির্বাচন অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি ৪৫টি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণসহ মেট্রোপলিটন থানাগুলোর জন্য ১৬টি ফ্লোর-স্পেস ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়। ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু হওয়ার পর থেকে যে জাতীয় তথ্যভান্ডার বা ন্যাশনাল ডেটাবেজ তৈরি হয়েছে, সেটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও নিরাপদ করতেই মূলত এই উদ্যোগ গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ উপজেলায় সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলেও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিকভাবে নতুন উপজেলা গঠিত হওয়ার কারণে ৬৫টি এলাকায় এখনো কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নেই। বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত সেই অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল।

প্রকল্পের আওতায় কেবল ভবন নির্মাণই নয়, বরং প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ, আসবাবপত্র এবং আধুনিক কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামাদিও ক্রয়ের সংস্থান রাখা হয়েছিল। কমিশন মনে করছে, এই স্থায়ী অবকাঠামোসমূহ নির্মিত হলে ভোটার তালিকা নিয়মিত হালনাগাদকরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সংশোধন ও অন্যান্য নাগরিক সেবা মাঠ পর্যায়ে আরও সহজ ও দ্রুততর হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য মূল্যবান নির্বাচনি মালামাল সংরক্ষণের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সংস্থাটি। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বশেষ রেট শিডিউল অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন করার ফলে বিগত সময়ের তুলনায় প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রদান এবং তথ্যভান্ডারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সভায় জনভোগান্তি লাঘব এবং সরকারি সম্পদের যৌক্তিক ও টেকসই ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নির্দেশনা দেন যে, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জন্য যত্রতত্র আলাদা আলাদা ছোট ভবন নির্মাণ না করে একটি বড় ও সমন্বিত ভবন নির্মাণ করতে হবে। উপজেলার সকল সরকারি প্রশাসনিক অফিস যেন একই ভবনের অধীনে থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ‘এক ছাদের নিচে’ সেবা প্রদানের এই ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন বহুমূল্য সরকারি জমির সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজের জন্য এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যাতায়াতের বিড়ম্বনা সইতে হবে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টারের অবস্থান ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারগুলো কেন বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকবে সেটি পুনরায় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট, স্থায়ী এবং উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সংবলিত সমন্বিত জায়গায় ডেটা সেন্টার পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। মূলত এই প্রশাসনিক সংস্কার ও সমন্বিত সেবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রকল্পটি পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম জানান, নিয়মানুযায়ী ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প হওয়ায় এটি একনেক সভায় পেশ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যথাযথ অবকাঠামো নিশ্চিত হলে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিকদের নির্ভুল সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে প্রকল্পটির নকশা এবং কৌশলগত দিকগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের তালিকায় ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্রগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ থানা নির্বাচন অফিসগুলোর জন্য স্থায়ী স্থান সংস্থানের বিষয়টি এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনার ফলে এখন সমন্বিত অবকাঠামোর আওতায় এই নির্বাচনি অফিসগুলোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026