বাংলাদেশ ডেস্ক
বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রথমবারের মতো দলের তৃণমূল ও সাংগঠনিক পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ শনিবার (৯ মে) বড় ধরনের মতবিনিময়সভায় বসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংগঠনিক ও সরকারি কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
নির্বাচন-পরবর্তী গত পাঁচ মাসে এটিই বিএনপির প্রথম আনুষ্ঠানিক এবং বর্ধিত সাংগঠনিক কর্মসূচি। সভায় দলের মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। মূলত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামত গ্রহণ এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অবহিত করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৮ মে) অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গণমাধ্যমকে জানান, এই সভায় দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া বিএনপির প্রধান তিনটি অঙ্গসংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও এই সভায় অংশগ্রহণ করবেন। তৃণমূলের এই প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
দলীয় সূত্রমতে, সভায় সারা দেশ থেকে আসা জেলা পর্যায়ের নেতারা দলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং সরকারের গত দুই-তিন মাসের কার্যক্রমের ওপর নিজস্ব মূল্যায়ন ও মতামত তুলে ধরবেন। তৃণমূলের এই কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা সাজাতে চায় দলটির হাইকমান্ড। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা তাদের গৃহীত পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের চিত্র বিশ্লেষণসহ তথ্য আকারে উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নেতারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন, যা পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর এই আনুষ্ঠানিক সভার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সংহতি প্রদর্শন করতে চায়। নির্বাচনের পর প্রশাসনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা আসার যে আশঙ্কা থাকে, তা নিরসন করাই এই সভার অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেলা ও মহানগরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর বিষয়েও এই সভায় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, এই মতবিনিময়সভার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের আবারও সরাসরি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় করা হবে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যও রয়েছে দলটির। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দল হিসেবে বিএনপি যে সমানতালে শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে চায়, তা এই বিশাল জনবলের উপস্থিতির মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। দিনব্যাপী এই কর্মসূচি শেষে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাপনী বক্তব্যে নেতাকর্মীদের জন্য আগামীর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।