খেলাধূলা ডেস্ক
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে লুসাইল স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত এখনো ফুটবল প্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করেই আলবিসেলেস্তেরা পুনরায় বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই যে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দলের চেয়েও অন্য চারটি দলকে আসন্ন বিশ্বকাপের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছেন।
আর্জেন্টাইন সাংবাদিক পলো আলভারেজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর বিষয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন মেসি। সেখানে তিনি বর্তমান সময়ের ফুটবল প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন ও পর্তুগালকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে অভিহিত করেন। গতবারের রানার্স-আপ ফ্রান্সকে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবল তারকা।
দলগুলোর শক্তিমত্তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মেসি জানান, আন্তর্জাতিক ফুটবলের বর্তমান সমীকরণে কয়েকটি দল আর্জেন্টিনার তুলনায় অধিকতর ছন্দে রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, কিছু দল বর্তমানে আমাদের চেয়ে বেশি ছন্দে আছে এবং তারা ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে থাকবে। ফ্রান্স এখন অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের দলে বিশ্বমানের অসংখ্য খেলোয়াড় রয়েছে যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।” ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা এবং অভিজ্ঞতাই তাদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্বজয়ের দৌড়ে ইউরোপের আরেক পরাশক্তি স্পেনকেও বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন মেসি। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে স্পেনের পারফরম্যান্স এবং তাদের খেলার শৈলী নির্দেশ করে যে দলটি সঠিক পথে উন্নতি করছে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়া স্পেন যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে নিয়ে মেসির মূল্যায়ন বরাবরই উচ্চকিত। গত কয়েক বছর ব্রাজিলীয় ফুটবলে কিছুটা অস্থিরতা বা কঠিন সময় পার করলেও সেলেসাওরা যে সবসময়ই শিরোপার দাবিদার, তা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ব্রাজিল প্রসঙ্গে মেসি যোগ করেন, “ব্রাজিল কিছুদিন ধরে হয়তো নিজেদের সেরা ছন্দে নেই, কিন্তু ফুটবল ঐতিহ্যের কারণে তারা সবসময়ই একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী দল। তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।”
ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল পর্তুগাল সম্পর্কেও ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন এই মহাতারকা। তিনি বিশ্বাস করেন, পর্তুগিজ দলটি বর্তমানে বিশেষভাবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলছে। বিশ্বমঞ্চে যেকোনো বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড এখন পর্তুগালের রয়েছে। দলটির আক্রমণভাগ এবং রক্ষণভাগের সংমিশ্রণ তাদের শিরোপার দৌড়ে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের মুকুট ধরে রাখার গুরুভার আর্জেন্টিনার কাঁধে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপটি হতে পারে বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির শেষ অংশগ্রহণ। ফলে ফুটবল বিশ্বের নজর এখন আর্জেন্টিনার প্রস্তুতির দিকে। তবে অধিনায়ক মেসির এমন বিনয়ী ও বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ ফুটবল মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিজের দলকে ফেবারিট তালিকায় শীর্ষে না রেখে অন্য দলগুলোর শক্তিমত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া মেসির পরিণত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, মেসির এই পর্যবেক্ষণ মাঠের লড়াইয়ে কতটা প্রতিফলিত হয়।