সারাদেশ ডেস্ক
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার আকাশে রহস্যময় এক আলোকছটার দেখা মিলেছে। শুক্রবার (০৮ মে) সন্ধ্যার পর পশ্চিম-দক্ষিণ আকাশে হঠাৎ কয়েকবার এই বিচিত্র আলোর ঝলকানি পরিলক্ষিত হয়। আকাশ পরিষ্কার থাকা অবস্থায় এই অদ্ভুত আলোকদৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অল্প সময় স্থায়ী এই আলোর উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিষয়টি জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর পাথরঘাটার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আকাশে দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং উজ্জ্বল এক প্রকার আলোর রেখা দেখা যায়। জহির হোসেন নামে এক স্থানীয় অটোচালক জানান, গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ তিনি আকাশে বিচিত্র গতির এই আলো দেখতে পান। যা সাধারণ বিদ্যুৎ চমকানি বা তারার অবস্থান পরিবর্তনের চেয়ে ভিন্নতর ছিল। আকাশ থেকে নিচের দিকে বা আড়াআড়িভাবে আলোর এই তীব্র বিচ্ছুরণ দেখে অনেকে হতভম্ব হয়ে পড়েন। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা এই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আলোকছটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কেউ কেউ এটিকে মহাকাশীয় কোনো বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন, আবার অনেকের ধারণা এটি কোনো কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ বা উল্কাপাত হতে পারে। ইব্রাহিম নামের এক স্থানীয় যুবক জানান, সন্ধ্যার আকাশ হঠাৎ যেভাবে আলোকিত হয়ে উঠেছিল, তা সচরাচর দেখা যায় না। এই দৃশ্য দেখার পর থেকে স্থানীয় চায়ের দোকান এবং হাট-বাজারগুলোতে মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও নানা মতভেদ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত বায়ুমণ্ডলে মহাকাশীয় কোনো বস্তুর প্রবেশ বা আবহাওয়াগত বিশেষ কোনো পরিবর্তনের কারণে ঘটতে পারে। সাধারণত মহাকাশ থেকে যখন কোনো উল্কাপিন্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন ঘর্ষণের ফলে তীব্র আগুনের সৃষ্টি হয়, যাকে দূর থেকে আলোর ঝলকানি হিসেবে দেখা যায়। এছাড়া স্পেস স্টেশনের কোনো যন্ত্রাংশ বা নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বায়ুমণ্ডলে পুড়তে শুরু করলেও এমন দৃশ্যের অবতারণা হতে পারে। তবে বরগুনার এই সুনির্দিষ্ট ঘটনাটি প্রাকৃতিক নাকি কৃত্রিম কোনো উৎস থেকে সৃষ্ট, তা অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন সচেতন মহল।
উপকূলীয় জেলা হিসেবে বরগুনার পাথরঘাটায় অতীতেও আবহাওয়াগত নানা পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে সন্ধ্যার আকাশে এমন নিভৃত আলোর ঝলকানি সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। জনমনে উদ্ভূত বিভ্রান্তি কাটাতে এবং সঠিক কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া বিভাগ বা মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
উল্লেখ্য, এমন আলোক দৃশ্য দেখার পর জনমনে যেন কোনো ধরনের কুসংস্কার বা ভীতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই মহাকাশ থেকে পাথর বা ধাতু খন্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এসে ছাই হয়ে যায়, যা অনেক সময় এমন আলোক বিচ্ছুরণ ঘটায়। বরগুনার এই ঘটনাটিও সেটির অংশ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।