অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সবশেষ ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। আজ শনিবার (৯ মে) থেকে সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর হবে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বিক্রি হবে।
এর আগে গত ৭ মে বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তার মাত্র দুই দিন আগে ৬ মে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পর পর দুই দফায় ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ সালে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা আগের বছরের তুলনায় অনেকটা বেশি। বছরের প্রথম পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই দেশের বাজারে মোট ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালের পুরো সময়ে ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বাড়ানো হয়েছিল এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে মূল্য পরিবর্তনের সংখ্যা গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বর্ণের দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সাধারণ মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে অলঙ্কার ক্রয়ে বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের কদর থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে বাজার কিছুটা স্থবির হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণেই মূলত তারা এই সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।