অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ফের বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দর আজ শুক্রবারও দেশের বাজারে বলবৎ রয়েছে।
বাজুস সূত্র জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায়। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে এটিই বর্তমানে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড।
এর আগে গত বুধবারও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় ভরিতে প্রায় ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বেড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। মূলত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সরবরাহ সংকট এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুত করার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে বিশ্বজুড়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ক্রেতা ও গহনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে এবং সাধারণ উৎসবে গহনা ক্রয়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে। বাজুস নির্ধারিত এই মূল্য তালিকায় স্বর্ণের দাম বাড়লেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। জুয়েলারি খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে নিয়মিত বিরতিতে দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। তবে উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা বাজারে বেচাকেনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা এই শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি কেবল সাধারণ ভোক্তাদেরই নয়, বরং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও মূলধন সংকটে ফেলছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বাজুস প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় দাম সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।