রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটবদ্ধভাবে অংশ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দলের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী জোটে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিবেশ তৈরি হলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, দল এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে নাকি জোটগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমন্বয়ের একটি প্রাথমিক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদীয় রাজনীতি ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে সব পক্ষকে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সে বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জাতীয় নাগরিক পার্টি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো উত্থাপন করছে এবং অতীতের মতো সংসদ বয়কট বা অকার্যকর করার রাজনীতিতে লিপ্ত না হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সংসদের আসন বিন্যাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে বর্তমানে একপক্ষীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিরোধী দলের অবস্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় নানাবিধ চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বিগ্রহের প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন মহামারির প্রকোপ বিদ্যমান থাকায় এই মুহূর্তে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের চেয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এনসিপি। তবে বিরোধী দলের দাবিগুলো সংসদে অগ্রাহ্য করা হলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিএনপি ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন হচ্ছে বা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কী, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংসদীয় আলোচনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান। সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে তারা দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। সাক্ষাৎ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা চলমান রাজনৈতিক ইস্যু ও আগামী দিনের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কথা বলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য জোট গঠনের ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই জোটের প্রভাব ভোটারদের মাঝে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জোটের চূড়ান্ত রূপরেখা এবং আসন বণ্টন নিয়ে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।