1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিদেশি এয়ারলাইনস ও ট্যুর অপারেটরদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার ও কাজের মান নিশ্চিত করার নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ৭ জুন বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন এয়ার এশিয়া ও এয়ারবাসের মধ্যে ১৯০০ কোটি ডলারের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর এক মাসে ৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ৩০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ: প্রতিমন্ত্রী বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে ইরানের প্রস্তুতির বার্তা; অধিকার রক্ষায় অনড় পেজেশকিয়ান ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন, মরদেহ দেশে পৌঁছাবে শনিবার

বিদেশি এয়ারলাইনস ও ট্যুর অপারেটরদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি প্রতিবেদক

বিমান, জাহাজ, ট্যুর অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস খাতের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করতে নতুন সমন্বিত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন সময়ে জারি করা ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনাগুলোকে একত্র করে একটি সুবিন্যস্ত কাঠামোতে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক পরিবহন ও পর্যটন খাতের আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়িক জটিলতা হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনায় এয়ারলাইনস ও শিপিং কোম্পানিগুলোর আয় করা অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনস এবং শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের টিকিট বিক্রয় বা কার্গো পরিবহন থেকে অর্জিত আয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ের যাবতীয় কর ও পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করার পর অবশিষ্ট অর্থ তাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে পারবে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে অব্যবহৃত টিকিটের অর্থ ফেরতের (রিফান্ড) প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে মোট আয়ের অন্তত ১০ শতাংশ অর্থ স্থানীয় ব্যাংক হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এই বিধান নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রাহক সেবা ও আর্থিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডিজিটাল লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে সার্কুলারে অনলাইন টিকিট বিক্রির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে জমা রাখা যাবে। এছাড়া ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, এয়ারলাইনস ও শিপিং কোম্পানিগুলোকে আলাদা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই হিসাবের মাধ্যমে তারা রপ্তানি ও আমদানি পণ্যের পরিবহন সংক্রান্ত ব্যয় পরিচালনা করতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

ট্যুরিজম বা পর্যটন খাতের বিকাশে ট্যুর অপারেটরদের জন্য লেনদেনের সীমা ও পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশগামী বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা তাদের বার্ষিক ভ্রমণ কোটার (এনটাইটেলমেন্ট) সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করে ট্যুর প্যাকেজ কিনতে পারবেন। এর ফলে পর্যটকদের জন্য সরাসরি নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বহন করার বাধ্যবাধকতা কমবে এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ লেনদেন উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি, বিদেশি পর্যটকদের সেবা প্রদানকারী দেশি ট্যুর অপারেটররা তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা পরবর্তী সময়ে তাদের আন্তর্জাতিক বিপণন ও সেবা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে।

কুরিয়ার সার্ভিস খাতের জন্য নতুন নীতিমালায় বৈদেশিক মুদ্রা আদান-প্রদানের নিয়মগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবার বিনিময়ে অর্জিত অর্থ বা পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে এই সমন্বিত কাঠামো অনুসরণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন এই নীতিমালা আগামী এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত অন্য কোনো নির্দেশনা জারি করা হলে সেটিও এই কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং সেবা খাতের ব্যবসায়ীদের বৈশ্বিক লেনদেনে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই সংস্কার আনা হয়েছে। বিশেষ করে বিমান ও জাহাজ চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করায় বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অপারেটরদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একইসাথে পর্যটন খাতে ডলার ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ করায় এই শিল্পে আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সামগ্রিকভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সমন্বিত নীতিমালা দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026