নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত এবং মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ভারতের চেন্নাইভিত্তিক বহুজাতিক পানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ভিএ টেক ওয়াবাগ লিমিটেড’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাইলেশ কুমারের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের বর্তমান পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, পানি পরিশোধন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং জনসাধারণের জন্য নিরাপদ পানির মান নিশ্চিত করার বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার বিনিময় করেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।
বৈঠককালে মন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের সময়ানুবর্তিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা দীর্ঘসূত্রিতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিটি সংস্থাকে দ্রুততার সাথে কাজ করার পাশাপাশি প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে আপসহীন থাকতে হবে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় উন্নত পানি ও বর্জ্য পানি শোধন প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই খাতে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তির সংযোজন জরুরি।
আলোচনায় রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ রোধের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে নদ-নদীগুলো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা নিরসনে কার্যকর ও আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন ও আধুনিকায়নে দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের পানি পরিশোধন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করেন এবং এই খাতে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষই পরিবেশবান্ধব এবং জনবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নে একমত পোষণ করেন।
উক্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, গৃহীত প্রকল্পসমূহ দ্রুত পর্যবেক্ষণের আওতায় এনে সেগুলোর বাস্তবায়ন গতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধি করা হবে। মূলত জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবেশের বিপর্যয় রোধে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো সঠিক সময়ে শেষ করাই এই মূহূর্তে মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য।