1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজশাহীতে শ্রমিক অসন্তোষ: ফেডারেশন ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা জামায়াত জোট ত্যাগ করার জন্য শরিক চার দলকে হেফাজতে ইসলামের চাপ অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অসাধু দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ধর্মমন্ত্রীর: কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের নির্দেশ ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন, নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলার শুনানি আবারও স্থগিত ঈদযাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি স্টেশন কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজিতে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা জড়িত: প্রাক-বাজেট সংলাপে সংসদ সদস্য মিলন সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু, মোট নিহত ৩

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল পরবর্তী সহিংসতায় উত্তাল রাজ্য, নিহত ২

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৩৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৪ মে সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাত থেকেই কলকাতা সহ রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই রাজনৈতিক সংঘাত, দলীয় কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পৃথক সংঘর্ষে রাজনৈতিক দলের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভোট পরবর্তী এই সহিংসতায় উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে ঘটনাস্থলে যান ন্যাজাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভরত প্রসূন কর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার সময় একটি বাড়ি থেকে ছোঁড়া গুলিতে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। আহত দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বিজয়ী দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভাঙড়ের নিমকুড়িয়া ও বেঁওতা এলাকায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর বাড়ি ও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র মতে, সাধারণ নারীসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে।

সহিংসতার ঘটনায় হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে যাদব বর (৪৮) নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, সোমবার রাতে জয়ের আনন্দ উদযাপনের সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তার ওপর হামলা চালায়। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই দিনে বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলোতেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিলিগুড়িতে বিদায়ী মেয়র গৌতম দেবের কার্যালয়সহ বর্ধমান, বারুইপুর এবং কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা ঘটেছে। মুর্শিদাবাদের ডোমকল পৌরসভা এলাকায় শফিকুল ইসলাম নামে এক সিপিএম কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলমান এই সহিংস পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে কয়েকশ দলীয় কার্যালয় এবং প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১২ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি দলের কর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং দলীয়ভাবে আক্রান্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে দ্রুত শান্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালার কাছে সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান। একইসঙ্গে নিজ দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জয়ের আনন্দে কারও ভাবাবেগে যেন আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করেছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থাকলেও রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে এই সহিংসতা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026