নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৮ মে পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ জনে। আজ শুক্রবার (৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সর্বশেষ এই জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৪৯৪ জন শিশুর শরীরে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ দেড় মাসব্যাপী এই সংক্রমণে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং ২৮৫ জন মারা গেছে এর উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪৯০ জনের শরীরে। এছাড়া সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেছে ৪৬ হাজার ৭১০ জন।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে মোট ১৭০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ৫৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যা সারাদেশের মোট সংক্রমণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা এবং টিকা দান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশন ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশের উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্মূল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।