বিশেষ প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি পতিত স্বৈরাচারের মতো আচরণ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব এবং সেটি বিএনপির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক দল বা দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত কোনো আইন নিয়ে বিএনপি বিচলিত বা চিন্তিত নয়।
শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা আশা করেন বর্তমান সরকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না। তিনি মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ বজায় রাখা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যদি কেউ আইন অমান্য করে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। বিএনপি কোনো বিচারিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণকারী সংস্থা নয়; বরং রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা কেবল আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত সময়ের অপকর্ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা দলীয় অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দীর্ঘ আন্দোলনের পর সংগঠনের গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি করতে বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সংগঠনকে শক্তিশালী ও তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে দলে নতুন নেতৃত্ব আসা এবং নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা দলটিকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী এবং শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শাহ আলম রাজা, সদস্য সচিব কামরুল জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ বদরুল আলম সবুজসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, শ্রমিক দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়াও আলোচনা সভা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় করণীয় শীর্ষক মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা পরবর্তী সময়ে বড় দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান ও আইনি কাঠামোর প্রতি তাদের আস্থার বিষয়টি নজরুল ইসলাম খানের এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিতর্ক নিয়ে দেশে চলমান আলোচনার মধ্যে বিএনপির এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী এবং যেকোনো অগণতান্ত্রিক আচরণের বিপক্ষে তাদের অবস্থান অনড় থাকবে।