নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত এই সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে বর্তমান সরকার বরদাশত করবে না।
শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর রমনা মডেল থানা পরিদর্শনকালে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর আওতাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ থানাটির সার্বিক প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে তিনি এই ঝটিকা সফর করেন।
পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমনা মডেল থানার বিভিন্ন বিভাগ, হাজতখানা এবং নারী ও শিশু ওয়ান স্টপ সার্ভিস ডেস্কসহ সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ডিউটি অফিসার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেন। এ সময় থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনেন এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।
উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পুলিশকে হতে হবে জনগণের পরম বন্ধু। থানায় আসা প্রত্যেকটি মানুষ যেন ন্যায্য আইনি সেবা এবং সম্মানজনক আচরণ পায়, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। তিনি সততা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে সেবাদানের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে জিডি বা মামলা করতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তিনি জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগ ও আধুনিকায়নের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, সরকার পুলিশের লজিস্টিক সুবিধা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করছে। তবে এই সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে রাষ্ট্রের প্রত্যাশা হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা। তিনি বলেন, “ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান বহন করবে না। মুষ্টিমেয় কিছু সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো বাহিনীর অর্জন ম্লান হতে দেওয়া যাবে না।”
দেশের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশি টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং কালচার রোধ এবং সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরাসরি থানা পরিদর্শনে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি মাঠ পর্যায়ের পুলিশিংয়ে জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে পুলিশি সেবা নিয়ে যে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট রয়েছে, তা কাটাতে এ ধরনের প্রশাসনিক কঠোরতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ডিএমপির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব সারাদেশে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থানার ডায়েরি ও অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।