বাংলাদেশ ডেস্ক
সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। শনিবার (২ মে) সিলেট নগরীর এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিকল্পনার কথা জানান। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির ক্রমবর্ধমান সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূপৃষ্ঠের পানির উৎস বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, সারাদেশে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানির আধার সংরক্ষণে খালগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম সফল হলে কৃষি ও দৈনন্দিন কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
সিলেটের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি জানান, সিলেটের বর্তমান ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। শুধু তাই নয়, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালটিকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সিলেটে বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটে একটি আধুনিক আইটি পার্ক স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা সরকারের রয়েছে। এই আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সিলেট একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম সিলেট সফর। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সুধী সমাবেশে সিলেটের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সিলেটের ঝুলে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গতিশীল হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন সিলেটে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। সরকারি এই প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সিলেটের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতাও কামনা করেন।