সারাদেশ ডেস্ক
ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলা থেকে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর নিখোঁজ হওয়া ২৭ বছর বয়সী এক যুবক একদিন পর টাঙ্গাইল জেলার যমুনা সেতুর পাশে অচেতন ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও শহরে ব্যাংকে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে ট্রাকচালকের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, তিনি অজ্ঞান পার্টি বা কোনো অসাধু চক্রের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
নিখোঁজ যুবকের নাম দর্প বর্মন সৌরভ (২৭)। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোবিন্দনগর এলাকার গোপাল চন্দ্রের ছেলে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌরভ স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ইএসডিও থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন। ওই ঋণের অর্থ উত্তোলনের উদ্দেশ্যে তিনি ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের মার্কেন্টাইল ব্যাংকে যান। ব্যাংকে যাওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এদিকে নিখোঁজের ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
নিখোঁজের প্রায় একদিন পর শুক্রবার রাতে এক ট্রাকচালকের মাধ্যমে সৌরভের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ট্রাকচালক জানান, তিনি ঢাকার উদ্দেশে যমুনা সেতু পার হওয়ার সময় সেতু সংলগ্ন এলাকায় একজন তরুণকে হেলেদুলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ওই ব্যক্তি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না এবং শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিলেন।
ট্রাকচালক জানান, কিছু সময় পর ওই যুবক ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় ও পরিবারের মোবাইল নম্বর দিতে সক্ষম হন। সেই নম্বরে যোগাযোগ করার পর পরিবার নিশ্চিত হয় যে তিনিই নিখোঁজ সৌরভ। পরে ট্রাকচালকের মাধ্যমে বিষয়টি পরিবারের কাছে জানানো হলে তারা দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পরিবার জানায়, উদ্ধারের সময় সৌরভের কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও অনুপস্থিত ছিল। তিনি কীভাবে ঠাকুরগাঁও থেকে টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন এবং এই সময়ে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি। শুধু তিনি জানান, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বাইরে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কিছুই মনে নেই।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয় এবং প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। পরে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সঙ্গে সমন্বয় করে তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছিল। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলে যমুনা সেতু এলাকায় ওই যুবকের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৌরভ কোনো অজ্ঞান পার্টি বা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কবলে পড়তে পারেন।
তিনি আরও জানান, যুবককে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে ফিরিয়ে আনার পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, পথ পরিবর্তনের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক এলাকা ও অর্থ উত্তোলনের পর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনে কোনো চক্র জড়িত থাকলে তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।