নিজস্ব প্রতিবেদক
বিসিএস ক্যাডারভুক্ত প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। এই প্রতিনিধি দলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ১১ জন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত বিশেষ ‘এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রগ্রাম’-এ অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদেশ প্রশিক্ষণ শাখা থেকে উপসচিব মো. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ, কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মনোনীত কর্মকর্তারা পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত খ্যাতনামা ‘সিভিল সার্ভিসেস একাডেমি’তে (সিএসএ) আয়োজিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। আগামী ৪ মে ২০২৬ থেকে ২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। প্রশাসনিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলটি আগামী ৪ মে অথবা তার কাছাকাছি সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ, অবস্থান ও যাতায়াতের সময়কাল কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব বা ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য হবে। সফরকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও ভাতাদি বাংলাদেশ থেকেই বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রাপ্য হবেন।
আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ও শর্তাবলির বিষয়ে জারিকৃত আদেশে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির যাবতীয় ব্যয়ভার পাকিস্তান সরকার বহন করবে। ফলে এই সফর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের কোনো অতিরিক্ত আর্থিক সংশ্লিষ্টতা বা সরাসরি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ছে না। সফর শেষে কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদান নিশ্চিত করার বিষয়েও আদেশে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পর কর্মকর্তাদের জন্য অভিজ্ঞতা ও লব্ধ জ্ঞান নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সফর শেষ হওয়ার পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদেশ প্রশিক্ষণ শাখায় একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এই প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণে অর্জিত কারিগরি ও প্রশাসনিক জ্ঞান এবং তা বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কীভাবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে এবং বিভিন্ন দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরিতে এ ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। লাহোর সিভিল সার্ভিসেস একাডেমি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষায়িত পাঠ্যক্রম পরিচালিত হয়। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক প্রশাসনিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।