নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত এক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান বিপদের সময় বাংলাদেশকে পাশে পায়নি বলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন ও খণ্ডিত তথ্যের অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছে মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন যে, একটি বন্ধুরাষ্ট্র কেন এমন মন্তব্য করল যে তারা চরম কষ্টের সময়ে বাংলাদেশকে পাশে পায়নি। এই বিষয়টি জনমনে এবং রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি করলে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত অবস্থান পরিষ্কার করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্য তথা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ এবং গঠনমূলক নীতি বজায় রেখে আসছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস নিজেরাই সাম্প্রতিক এক বার্তায় বাংলাদেশের অনুসৃত নীতির প্রশংসা করেছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, তাদের কর্মকর্তাদের দেওয়া বক্তব্যের নির্দিষ্ট কিছু অংশ প্রেক্ষাপটহীনভাবে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, যা প্রকৃত তথ্যের বিকৃতি ঘটিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই।
ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৩ এপ্রিল ঢাকাস্থ ইরানি দূতাবাসে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইরানের জনগণের জন্য জরুরি চিকিৎসা সহায়তা-সামগ্রী হস্তান্তরের একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদি উপস্থিত ছিলেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংকটের এই দুঃসময়ে ইরানের সাধারণ মানুষের প্রতি বাংলাদেশের সহমর্মিতা এবং এই জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগকে তিনি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে একটি নিরপেক্ষ এবং শান্তিকামী অবস্থান বজায় রেখে চলছে। ওআইসি (OIC) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশ সবসময়ই মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে কথা বলে আসছে। ইরানের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সাম্প্রতিক এই চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর বিষয়টি সেই বন্ধুত্বেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী বিবৃতির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যের অপব্যাখ্যা বা খণ্ডিত প্রচার যেন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কে ফাটল ধরাতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক পূর্বের ন্যায় অটুট রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।