চাঁদপুর প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আনন্দময় ও যুগোপযোগী করে তুলতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কেবল পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে সমান গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১ মে) চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তৃণমূল পর্যায়ে নতুন খেলোয়াড় অন্বেষণ এবং শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির লক্ষ্যে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক তৈরি করা। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা ঝরে না পড়ে এবং তারা যেন আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
খেলাধুলার গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, শরীরচর্চা ও খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন ক্রীড়া ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পারদর্শী হয়ে ওঠে, সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন নিশ্চিত করা হচ্ছে। গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো আয়োজনগুলো তৃণমূলের মেধাবী ফুটবলারদের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। তিনি তার বক্তব্যে শিশুদের সঠিক বিকাশে শিক্ষা ও খেলাধুলার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কচুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পুরস্কার বিতরণী সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সরকার কর্তৃক গৃহীত শিক্ষা ও ক্রীড়া নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন হলে আগামী দিনে এ দেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও মেডেল তুলে দেন। টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় কচুয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক দর্শক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।