রাজধানী ডেস্ক
আগামী ৩ মে থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৌশল নির্ধারণে এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শুক্রবার তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীন সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সার্বিক রূপরেখা ও আলোচ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাতে আগামীকাল শনিবার (২ মে) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে (কক্ষ নং ৪০০, ভবন নং ১) একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও এজেন্ডা নিয়ে ব্রিফিং করবেন।
দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনাররা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনের নির্ধারিত চার দিনে জেলা প্রশাসকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রীবর্গ এবং সিনিয়র সচিবদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন। এ সময় মাঠ পর্যায়ে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের সংস্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। কার্য অধিবেশনগুলোতে মূলত স্থানীয় প্রশাসনের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি ও জনসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঐতিহ্যগতভাবে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের মাধ্যমে ডিসিরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণের সুযোগ পান। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি সরকারের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের সমন্বয় সাধনের পথ সুগম হয়।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এবারের সম্মেলনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে যে সব প্রস্তাব আসে, তা যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন সরকারি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়নে প্রভাব ফেলে।