বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১০০টি ফ্লাইটে ৪০ হাজার ১৭৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। শুক্রবার (১ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরব পৌঁছানো মোট হজযাত্রীদের মধ্যে ৪ হাজার ৭১ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৩৬ হাজার ১০৬ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে গমন করেছেন।
হজযাত্রীদের পরিবহনে এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৪৫টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৩৭টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৮টিসহ মোট ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে হজযাত্রীদের বহনকারী বিমানগুলো সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে।
এদিকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পূর্বেই সৌদি আরবে অবস্থানরত ৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের সকলেই পুরুষ এবং তারা মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করেন। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে ৫ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রংপুরের কোতয়ালী থানার মো. শামসুল আলম (৬৩) গত মঙ্গলবার মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ছিলেন এবং এটিই চলতি মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনার কোনো হজযাত্রীর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
এর আগে হজ পালনে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আরও ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. আব্দুল হাই (৬১), শেরপুরের শ্রীবরদীর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮), দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান (৬৪), ময়মনসিংহের পাগলার মো. সেরাজুল হক (৬৬), টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম (৭০) এবং জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল (৭৫)। যথাযথ ধর্মীয় নিয়ম মেনে সৌদি আরবেই তাদের দাফন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো হজযাত্রী সেখানে মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলমানের অংশগ্রহণে এই বিশাল ধর্মীয় মহাসম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের সহায়তায় জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম ও মেডিকেল টিম নিয়োজিত রাখা হয়েছে। হজ যাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দলও নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সুবিধার্থে সরকার এবার হজ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সৌদি আরবে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও অনলাইন সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসন্ন হজ পালনে ইচ্ছুক অবশিষ্ট যাত্রীদের পরিবহন কার্যক্রম আগামী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে যেন কোনো হজযাত্রী ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তীব্র গরম ও বিরূপ আবহাওয়া বিবেচনায় হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সকল হজযাত্রী যেন নির্বিঘ্নে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন, সে লক্ষে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।