1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জলবায়ু অভিবাসনকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য সুলভ বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত জনবল ও নিজস্ব কার্যালয়ের প্রস্তাব আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও ভুটানের গুরুত্বারোপ জাতিসংঘে তথ্যের অখণ্ডতা ও ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাসে বাংলাদেশের জোরালো আহ্বান সাংবাদিক শাকিল ও ফারজানা রুপার জামিন আদেশ পিছিয়ে ১১ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু: পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের ৫ মামলায় জামিন বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলককে বহনকারী পুলিশের প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনার কবলে, আহত বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত জনবল ও নিজস্ব কার্যালয়ের প্রস্তাব

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অপরাধ তদন্তে বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের দাপ্তরিক ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকারের কাছে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করেছে। তদন্তে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা এবং ক্রমবর্ধমান অপরাধের ধরন মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি পৃথক দুটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার পিবিআই প্রধান এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল সংস্থাটির এই চাহিদার কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং জনবল সংকটের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যে ধরনের চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে দেশের ৬৪টি জেলাতেই পিবিআই তাদের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বিস্তৃত করতে সক্ষম হবে।

২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিশেষায়িত ইউনিটটি মূলত চাঞ্চল্যকর ও জটিল অপরাধের রহস্য উন্মোচন, অপরাধস্থল (ক্রাইম সিন) ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের জন্য পরিচিত। প্রতিষ্ঠাকালে এই ইউনিটের জনবল ছিল মাত্র ৯৭০ জন। পরবর্তী সময়ে কাজের পরিধি বাড়ায় বর্তমানে জনবল বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই সংখ্যাকে অপ্রতুল উল্লেখ করে সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও ৫ হাজার নতুন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।

পিবিআইয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটিতে ২ জন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ৫ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ৪৯ জন বিশেষ পুলিশ সুপারসহ (এসএসপি) বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা কর্মরত আছেন। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কাজ পরিচালনার জন্য ৩২২ জন পরিদর্শক এবং ৪৮৩ জন উপ-পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু মামলার সংখ্যা এবং তদন্তের জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই জনবল দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা দুরূহ হয়ে পড়ছে।

দাপ্তরিক অবকাঠামোর বিষয়ে পিবিআই প্রধান জানান, বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪২টিতেই পিবিআই ভাড়া বাড়িতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থায়ী কার্যালয় না থাকায় স্পর্শকাতর আলামত সংরক্ষণ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট ব্যবস্থাপনায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে সরকারি ২০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে নিজস্ব স্থায়ী ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নিজস্ব অবকাঠামো নিশ্চিত হলে তদন্তের মান আরও উন্নত হবে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সেবা প্রদান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিবিআইয়ের বর্তমান সক্ষমতার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংস্থাটির অধীনে একটি বিশেষ শাখা জঙ্গিবাদ দমন, সাইবার অপরাধ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় কাজ করছে। তাদের বর্তমান পরিবহন সুবিধায় ১৪টি জিপ, ৭১টি পিকআপ এবং ১৯০টি মোটরসাইকেল থাকলেও আধুনিক তদন্ত ভ্যান এবং অপরাধস্থল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত যানবাহনের সংকট রয়েছে। প্রস্তাবিত লজিস্টিক সাপোর্টের মধ্যে এই কারিগরি সরঞ্জামগুলোর উন্নয়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, পিবিআইয়ের এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। গত ১৯ এপ্রিল পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে সরকার প্রধানের কাছে এই প্রস্তাবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পিবিআইয়ের মতো একটি বিশেষায়িত ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে তা বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের এই যুগে দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আইনের শাসন সুসংহত করা সম্ভব হবে। যথাযথ বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পিবিআইকে একটি আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত সংস্থায় রূপান্তর করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026