1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
৩৬ হাজার ৯৯৬ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন, এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে আসামিপক্ষের জেরা অব্যাহত নারীদের ‘ট্রফি’ হিসেবে মূল্যায়নের বিরুদ্ধে প্রীতি জিনতার কড়া প্রতিবাদ ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা বলিউড অভিনেতা ভরত কাপুরের প্রয়াণ গোয়েন্দা চরিত্রে ওটিটি পর্দায় ফিরছেন রিচা চাড্ডা জাতীয় গ্রিডে আদানির দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু, কমবে লোডশেডিং সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিতে ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম সংস্কারে মিডিয়া কমিশন গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব

ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে তিন স্তরের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে ওয়াশিংটন সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে এই প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব না পাওয়ায় মার্কিন প্রশাসন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের নতুন এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি। তাঁর মতে, প্রস্তাবটিতে মূল সংকটের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আড়ালে রেখে অন্যান্য বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাপ্ত হয়। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে উভয় পক্ষ ফিরে যায়। সেই অচলাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তিন পর্যায়ের এই নতুন প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পাঠায়। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সংলাপে বসতে চায়, তবে এই নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আলোচনা হতে হবে।

ইরানের দেওয়া তিন স্তরের প্রস্তাবটির প্রথম পর্যায়ে শর্ত রাখা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে ইরান এবং লেবাননের ভূখণ্ডে আর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই মর্মে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানোর পূর্বশর্ত হলো সামরিক সংঘাতের অবসান।

প্রস্তাবটির দ্বিতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ের শর্তাবলি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’র ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই পথটির নিরাপত্তা এবং পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় ইরান।

সর্বশেষ এবং তৃতীয় পর্যায়ে ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্তাবলি মেনে নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তবেই কেবল তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবে। মূলত এই পর্যায়ক্রমিক শর্তই ওয়াশিংটনের আপত্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের পরমাণু ইস্যুটিকে আলোচনার শেষ ধাপে রেখে মূলত নিজেদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর এবং দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কৌশল গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো ইরানের পরমাণু সক্ষমতা সীমিত করা। এই মৌলিক নীতিগত পার্থক্যের কারণেই ইসলামাবাদের বৈঠকের পর দ্বিতীয় দফার এই উদ্যোগও বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশ উভয় পক্ষকে পুনরায় সংলাপে বসার আহ্বান জানালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। ইরানের প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওদিকে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আস্থার অভাব যেভাবে প্রকট হয়ে উঠছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026