বিশেষ প্রতিবেদক
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সাথে সফলভাবে সমন্বয় (সিনক্রোনাইজেশন) করা হয়। এর ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশে চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, আদানি প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিটটি সচল হওয়ার পর থেকেই এটি পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে। বর্তমানে এখান থেকে যে ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তা দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করবে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি পাবে। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার ফলে সামগ্রিক উৎপাদন বাড়বে এবং এর প্রভাবে দেশব্যাপী চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রচণ্ড তাপদাহ ও শিল্পকারখানার প্রসারের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড করা হয় ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। বিপরীতে আদানি প্ল্যান্টের এই অতিরিক্ত সরবরাহ ব্যতিরেকে উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট। ফলে গ্রিডে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি বিদ্যমান ছিল। আদানির দ্বিতীয় ইউনিটের এই সংযোজন সেই ঘাটতি কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে দেশের আরও দুটি বড় কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএল (রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও চীনের নরিনকো-র যৌথ উদ্যোগ) থেকে অতিরিক্ত ৬০০ মেগাওয়াট করে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা রয়েছে। আরএনপিএল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ২৮ এপ্রিল থেকে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কেন্দ্রগুলো থেকে ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদার সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে স্বস্তি ফিরে আসবে। বিশেষ করে সেচ মৌসুম ও প্রখর গরমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তখন আদানির মতো বড় প্রকল্প থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা এবং জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদানি পাওয়ারের এই ৯২৫ মেগাওয়াটসহ অন্যান্য নতুন কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন শুরু হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা শহর ও তৃণমূল উভয় পর্যায়েই অনেকটা হ্রাস পাবে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সরকার ও বিপিডিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ চাহিদা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও আমদানি করা বিদ্যুতের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।