অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৩৪ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) পরিবাহী চীনা পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘শিং তং ৭৯৯’। গতকাল শনিবার বিকেলে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। বর্তমানে কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে জাহাজটি থেকে জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, ১৮২ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ এই বিশালাকায় জাহাজটি অধিক ড্রাফট (গভীরতা) সম্পন্ন হওয়ার কারণে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটিতে প্রবেশ করতে পারেনি। নিয়ম অনুযায়ী, বহির্নোঙরে অবস্থান করে ছোট জাহাজের (লাইটার) মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি খালাস করে এর ওজন ও ড্রাফট কমানো হচ্ছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল খালাসের পর ড্রাফট সমুদ্রসীমার গভীরতার অনুকূলে এলে জাহাজটিকে জেটিতে বার্থিং করানো হবে। সেখান থেকে বাকি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি ডিপোতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতে এই জেট ফুয়েল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নিয়মিত বিরতিতে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া সচল রেখেছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (জেট এ-১) নিয়ে ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামক একটি ট্যাংকার বন্দরে আগমন করে। এছাড়া শনিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ৩৫ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘প্রিভে অ্যাঞ্জেল’ বন্দরে ভিড়েছে। এর আগের দিন শুক্রবারও তাইওয়ান থেকে ৩৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি কোয়েটা’ বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি বড় ডিজেল ও জেট ফুয়েলের জাহাজ আসায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিপিসি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এই জ্বালানি খালাস ও তা দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিক আমদানির ফলে বিমান পরিবহন খাতসহ সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় জ্বালানির সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব জ্বালানি জাতীয় গ্রিড ও তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করা হবে।