রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মতো জনতুষ্টিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার বর্তমানে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বাস্তবতা অস্বীকার করছে। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থী কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা দেশে আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে দাবি করেন, বর্তমান সরকার গত দুই মাসে নজিরবিহীনভাবে অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট প্রকট হলেও সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন, যা জনসাধারণের সাথে প্রতারণার শামিল। বিরোধীদলীয় এই নেতা উল্লেখ করেন যে, তার দল জনস্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাইলেও সরকার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কার কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে তারা দ্বিমত পোষণ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে বিএনপির অনীহা ও অসংলগ্ন অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দলের জন্ম গণভোটের মাধ্যমে, তাদের পক্ষ থেকে বর্তমান জনরায়কে অস্বীকার করা তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য সংকটজনক।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে গণভোটের বিকল্প নেই। জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার করলে রাজপথে ও সংসদে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ যে নতুন ধারার প্রত্যাশা করেছিল, বিএনপি সেই স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও দলীয়করণের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশে তিনি আরও সতর্ক করেন যে, দেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা কাম্য নয়, তবে সরকার যদি জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটতে চায়, তবে তরুণ সমাজ ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। মূলত জ্বালানি সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থানই বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপের সৃষ্টি করেছে।