নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এদিনের সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ১৫টি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর কয়েকটিতে বিশেষ কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের বিভিন্ন খাতের ব্যয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্প অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, বিগত সময়ে প্রস্তাবিত এবং বর্তমানে চলমান সব প্রকল্প পুনরায় রিভিউ বা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক প্রকল্পের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ায় সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে জনস্বার্থ এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের ব্যয় কোন কোন খাতে কী পরিমাণে হচ্ছে, তার যৌক্তিকতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গৃহীত প্রকল্পগুলো সামগ্রিকভাবে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পগুলোর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করার জন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করে দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। কোনো প্রকল্প যেন শুধু নেওয়ার জন্য নেওয়া না হয়, বরং তা যেন জাতীয় অর্থনীতিতে দৃশ্যমান অবদান রাখতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করতে চায় সরকার।”
বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ সংশ্লিষ্ট। শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যয়ের এই কঠোর অবস্থান দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।