বিশেষ প্রতিবেদক
বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের এই যুগে কোনো একক দেশের পক্ষে ডিজিটাল মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা শৃঙ্খলায় আনা সম্ভব নয়; বরং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
রোববার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত মার্চ মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ‘স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উক্ত সামিটকে বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। মন্ত্রী জানান, তুরস্ক সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিকেশন ডিরেক্টরেটের পরিচালক প্রফেসর বুরহানউত্তীন দুরানের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈঠককালে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওর সাথে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের পেশাদারিত্ব ও কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তথ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। প্রস্তাবটিতে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মধ্যে সংবাদ আদান-প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিনিময় এবং জনবল প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী সরকারি পর্যায়ে দুই দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে অপতথ্য বা ‘মিসইনফরমেশন’ রোধে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশ অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতির তোয়াক্কা না করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তথ্যমন্ত্রীর এই আহ্বান বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের পথ প্রশস্ত হতে পারে, যা সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ ডিজিটাল সংস্কৃতি বিকাশে সহায়ক হবে। তুরস্কের মতো দেশের সাথে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঢাকাস্থ তুর্কি দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষ আগামীতে তথ্য ও সংস্কৃতি বিনিময় কার্যক্রম আরও জোরদার করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।