1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
একনেক সভায় ১৫ প্রকল্প অনুমোদন: সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার কঠোর নির্দেশনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শৃঙ্খলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর তথ্যমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ ট্রাম্পের নির্দেশে পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন মার্কিন বিশেষ দূতরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর ষড়যন্ত্র করে সরকারের কোনো ক্ষতি করা সম্ভব নয়: মাদারীপুরে সংসদ সদস্য খোকন তালুকদার ২০০৪ সালে তারেক রহমানের আমন্ত্রণে বিল গেটসের বাংলাদেশ সফরের তথ্য প্রকাশ রাজধানীর কাফরুলে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩ জন আটক এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি সাবেক উপমন্ত্রী ও ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ার মিলনের ইন্তেকাল ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার অনিশ্চয়তা: লিভারপুলে কি সালাহ যুগের অনাকাঙ্ক্ষিত সমাপ্তি?

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল ডিগ্রি প্রদানের মাধ্যম না বানিয়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি উদ্ভাবনী মেধাসম্পদ রক্ষা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আইপি অ্যান্ড স্পোর্টস: রেডি, সেট, ইনোভেট’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা যাতে অন্য দেশে নিবন্ধিত না হয়, সে বিষয়ে গবেষক ও প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধাস্বত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে চলে যাওয়া বা ‘ব্রেন ড্রেইন’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের এই দেশত্যাগ রোধে ‘রিভার্স ব্রেন’ পলিসি গ্রহণ করা সময়ের দাবি। বিদেশ থেকে মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। তবে এই পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়হীনতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন ড. এহছানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ বা শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদাকে গুরুত্ব না দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কোর্স চালু করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারে কোনো ভূমিকা রাখছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কোর্স কারিকুলামকে ‘মার্কেট ডিপেন্ডেন্ট’ বা বাজারমুখী করার নির্দেশনা দেন তিনি।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বাজেটে গবেষণার বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি ইউজিসি-কে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলোচনা করে একটি ‘ইউনিফর্ম’ বা সমন্বিত ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে যে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, তা তরুণদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় কেড়ে নিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে কেবল বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে চলবে না। তাদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকির জন্য ইউজিসি-কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও মূল্যবোধ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যেই কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মহিদুস সামাদ খান। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিবসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের মেধাস্বত্ব আইন আধুনিকায়ন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলকে সম্পদে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনি ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026