রাজনীতি ডেস্ক
আগামী ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। ওইদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মে দিবসের এই সমাবেশকে সফল করতে দল ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক সমসাময়িক ইস্যু এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান কর্তৃক নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতে বিগত সাধারণ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু। ওই নির্বাচনে বিএনপি জনরায়ের ভিত্তিতে ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। জামায়াত আমিরের দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, একটি মহল তা নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং পুনরায় স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফেরার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতীতের ইতিহাস বিবেচনায় দেশের জনগণ নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক আদর্শকে ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী দিনেও যাতে এই অপশক্তিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১ মে-র এই সমাবেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর প্রকাশ্য জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখার বার্তা এই সমাবেশ থেকে দেওয়া হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। মে দিবসের কর্মসূচি ঘিরে নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।