অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বৃহৎ প্রদর্শনী ‘বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬’। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার কুড়িল সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী এই মেলা শুরু হবে। দেশের দ্রুত বিকাশমান পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশাল আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত সূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠনটি জানায়, আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীটি বিকেএমইএ এবং ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের ১ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, জাপান, তাইওয়ান, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, কানাডা, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। আইসিসিবির আটটি প্রদর্শনী হল জুড়ে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ১ হাজার ৮০০টি বুথে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বাধুনিক সেলাই মেশিন, টেক্সটাইল কেমিক্যাল, ডাইং প্রযুক্তি এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক এখানে প্রাধান্য পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকায়ন করা জরুরি। এই প্রদর্শনী দেশীয় শিল্প মালিকদের সরাসরি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ করে দেবে। বিটিকেজি এক্সপোর কনভেনার ফজলে শামীম এহসান এবং ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন প্রদর্শনীর কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত প্রস্তুতি নিয়ে আলোকপাত করেন। তারা জানান, এই প্রদর্শনী কেবল পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
কেবল প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ নয়, মেলা চলাকালীন শিল্পের বিভিন্ন সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বিইউটেক্স) এবং টেক্সটাইল ট্যুডে যৌথভাবে তিনটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করবে। এসব সেমিনারে বিশেষজ্ঞগণ পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্যোক্তারা শিল্পের আধুনিক ধারা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের আন্তর্জাতিক মেলা দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এই এক্সপো সেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেলাটি ২৯ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চার দিনে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ী এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন, যা দেশের রফতানি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে অ্যালিয়েন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী রুবাইয়াত আহসানসহ বিকেএমইএ-র ঊর্ধ্বতন পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।