জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরব গমনের প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান রয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে হজের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত মোট ৮১টি ফ্লাইটে ৩২ হাজার ৫৩২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত বিশেষ বুলেটিন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার যাত্রী রয়েছেন। মোট হজযাত্রীর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৩টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৮৪ জন, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের (সাউদিয়া) ৩০টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ২৯৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী জেদ্দায় অবতরণ করেছেন।
এদিকে চলতি বছর হজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত দুই জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন— টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মো. আবুল কাশেম ও জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল। মক্কায় অবস্থানকালীন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আবুল কাশেম মৃত্যুবরণ করেন এবং নইম উদ্দীন মন্ডল স্বাভাবিকভাবে মারা যান বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হজযাত্রী সেখানে মৃত্যুবরণ করলে তাকে ওই দেশের মাটিতেই দাফন করার বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে এ বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রি-হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে অবশিষ্ট হজযাত্রীদের পাঠানোর কাজ চলছে। বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার জন পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৯ হাজার ৪৩৫ জন হজযাত্রী রয়েছেন।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনার নির্দিষ্ট আবাসন স্থলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করছে স্ব-স্ব হজ এজেন্সি ও সরকারি হজ মিশন। হজযাত্রীদের সেবায় মক্কায় বাংলাদেশ হজ অফিস ও ক্লিনিক সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে অসুস্থতা রোধে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে আসার পর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মাধ্যমে হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।