নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্ধিত ভাড়া কেবল ডিজেলচালিত গণপরিবহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; গ্যাসচালিত কোনো যানবাহনে ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ নেই।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে এবং এর প্রভাব কেবল নির্দিষ্ট খাতের ওপর পড়বে।
গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে শেখ রবিউল আলম বলেন, “ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি তেলের দামের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। শুধুমাত্র ডিজেলচালিত বাসেই সরকার নির্ধারিত নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। সিএনজি বা গ্যাসচালিত পরিবহনে কোনোভাবেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া যাবে না। যদি কেউ এই সুযোগে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করে, তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভবিষ্যতে তেলের দাম কমলে ভাড়ার বিষয়ে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “তেলের দাম যদি পুনরায় হ্রাস পায়, তবে কোনো দীর্ঘ আলোচনা বা জটিলতা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস ভাড়া কমিয়ে আনা হবে। সরকার জনস্বার্থ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ নেই বলে দাবি করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকার অনেকটা বাধ্য হয়েই তেলের দাম সমন্বয় করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—ভর্তুকির বোঝা কমানো এবং সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধ করা। পাশের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম কম থাকলে পাচার হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে আসছে সরকার। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সমন্বয় অনিবার্য ছিল।
রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি এবং সড়কের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী অটোরিকশা চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোরিকশার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা পরিকল্পনা করছি ধাপে ধাপে প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করার। এর ফলে যানবাহনের গতি বাড়বে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখেই পর্যায়ক্রমে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।”
বিআইডব্লিউটিএ-এর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী অনুষ্ঠান শেষে ক্রীড়াবিদদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নৌ-পরিবহন খাতের আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে বাজার ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে, তবে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।