আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চেন্নাইয়ে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবিরের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়। নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)-এর এই সমাবেশে বিজয় তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং তাকে ‘কেবল একজন অভিনেতা’ হিসেবে গণ্য করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করার জন্য বিরোধীদের সতর্ক করে দেন।
সম্প্রতি এক মন্ত্রীর করা কটাক্ষের জবাবে বিজয় বলেন, পেশাগতভাবে তিনি একজন অভিনেতা হলেও রাজনীতিতে তিনি অভিনয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন না। বরং বর্তমান ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি পাল্টা আক্রমণ করেন। বিজয় অভিযোগ করেন, জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানের চেয়ে প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেই বিরোধীরা বেশি আগ্রহী।
গত বছর করুরে টিভিকে-র আয়োজিত একটি র্যালিতে পদপিষ্ট হয়ে ৪০ জনের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে জনসভায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন বিজয়। উক্ত দুর্ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করার প্রচেষ্টাকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, কর্মসূচিটি স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই পালন করা হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান।
বিজয় ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তার দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ গঠন করেন। আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তামিলনাড়ু রাজ্যের মোট ২৩৪টি আসনেই তার দল এককভাবে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে রুপালি পর্দার তারকাদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বিজয়ের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা না থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক পরিকল্পনার অভাব নিয়ে ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
রাজনৈতিক এই ব্যস্ততার সমান্তরালে বিজয়ের দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত ‘জন নায়ক’ বর্তমানে সেন্সর বোর্ডের সাথে আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। এর মধ্যেই গত ৯ এপ্রিল পুরো সিনেমাটি অনলাইনে অবৈধভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রযোজকরা।
তামিলনাড়ুর বর্তমান দ্বিমেরু রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বাইরে বিজয় কতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিজয়ের সমর্থক হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে তিনি ‘কিং মেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। সিনেমা জগত থেকে বিদায় নিয়ে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে মনোনিবেশ করার এই সিদ্ধান্ত বিজয়ের জন্য যেমন এক বিশাল পরীক্ষা, তেমনি তামিলনাড়ুর রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।