আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক যৌথ অভিযানে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বৈশ্বিক দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল মিনুকি নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দাবি নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আফ্রিকার একটি অঞ্চলে অত্যন্ত জটিল ও কৌশলগত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এই শীর্ষ জঙ্গি নেতাকে নির্মূল করা হয়। নিহত আবু-বিলাল আল-মিনুকি বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ও বিপজ্জনক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে মিনুকির অবস্থান ও গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ আসছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সামরিক কমান্ড যৌথভাবে এই বিমান ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে। তবে কৌশলগত ও নিরাপত্তা জনিত কারণে অভিযানটির সুনির্দিষ্ট সময় এবং ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নিহত আবু-বিলাল আল-মিনুকি মূলত নাইজেরিয়ার বর্নো অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইসলামিক স্টেটের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা ‘আইএসডব্লিউএপি’-এর প্রধান সমন্বয়ক ও নীতি-নির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৈশ্বিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পশ্চিমা স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে বিশেষ বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম আফ্রিকা, বিশেষ করে নাইজেরিয়া ও সাহেল অঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উগ্রবাদ দমনের অংশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় মার্কিন সেনা উপদেষ্টা, সামরিক প্রশিক্ষক এবং দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। এই যৌথ অভিযানটি সেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহযোগিতারই একটি অংশ।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আবু-বিলাল আল-মিনুকির মৃত্যু আইএসের আফ্রিকান নেটওয়ার্ক এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে সাময়িক বিপর্যয় তৈরি হলেও পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সামগ্রিক হুমকি এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। এই অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল এবং আঞ্চলিক সমন্বয় আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।