বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামী জুন মাসে ঘোষিতব্য জাতীয় বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা ও সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৫০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত নারীর কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলায় একটি নির্ধারিত জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মুদাফরগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুরে আরেকটি অনুরূপ পথসভায় বক্তব্য রাখার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্বে দেশব্যাপী জলাশয় ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিজমির সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চাঁদপুর সফরের মূল উদ্দেশ্যও এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পরিদর্শন ও তদারকি করা। সরকার দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রদত্ত সকল প্রতিশ্রুতি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ধাপে ধাপে পূরণে বদ্ধপরিকর।
ফ্যামিলি কার্ডের এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে নারীদের নামে এই কার্ড ইস্যু করায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সুসংহত হবে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর এই সম্প্রসারণকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কুমিল্লার লাকসামের মুদাফরগঞ্জে আয়োজিত এই পথসভায় কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।