স্বাস্থ্য ও জনসেবা ডেস্ক
সারাদেশে হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যে জেলায় আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান এই কার্যক্রমে জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪২১ জন শিশুকে এই প্রতিষেধক টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা সিভিল সার্জন এই কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াৎ বিন করিম জানান, ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৮ হাজার ১৯২ জন এবং সরাসরি কমিউনিটি পর্যায়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২২৯ জন শিশু রয়েছে। সরকারি এই জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের হাম ও রুবেলাজনিত শারীরিক জটিলতা থেকে সুরক্ষা প্রদান করা। বিশেষত, যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৯ মাস থেকে ১৫ মাস বয়সের টিকা গ্রহণ করেছে, তারাও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে পুনরায় টিকা নিতে পারবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে জেলায় ১ হাজার ৯৮টি অস্থায়ী এবং ৭টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়োজিত থাকবেন। দুর্গম এলাকাগুলোতেও যেন কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে বিশেষ মোবাইল টিম গঠনের কথা জানানো হয়েছে। সিভিল সার্জন বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি, যা সঠিক সময়ে প্রতিরোধ না করলে শিশুদের নিউমোনিয়া, অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যু ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী হাম-রুবেলা টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। ক্যাম্পেইন চলাকালীন কোনো শিশুর সামান্য জ্বর বা টিকার স্থানে সামান্য ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ক্ষণস্থায়ী। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ বুথ স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিকাদান নিশ্চিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা এস এম আল আমিন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ইমরান হোসেন এবং ডা. আমির খসরু তারেকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা বলেন, হাম-রুবেলা মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। আগামী তিন সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রম চলাকালীন নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতেও নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাম ও রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলায় এই বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে আসছে। সরকারের টিকাদান কর্মসূচির সফলতার ফলে দেশে এই রোগগুলোর প্রাদুর্ভাব আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এবারের ক্যাম্পেইনটি সফল হলে জেলায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে জেলাজুড়ে মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়েছে যাতে অভিভাবকরা পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারেন।