স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামে আক্রান্ত সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এই মৃত্যুগুলো হাম নিশ্চিত বলে এখনো প্রমাণিত হয়নি। একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে ১৬৫ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ হাজার ১৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাম পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে এই সময়ের মধ্যে আরও ১৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যাদের প্রকৃত মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত প্রায় এক মাসে সারাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৪৪৩ জনের দেহে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং অপুষ্টির মতো সমস্যা দেখা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বর্তমানে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে এবং টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। যেসব শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি, তাদের দ্রুততম সময়ে টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো শিশুর শরীরে উচ্চ জ্বর ও লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরই কেবল নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর পার্থক্য করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন এবং আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত ঔষধ ও জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।