অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ঢাকা: দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে সরকার নতুন আমদানি নীতি (ইমপোর্ট পলিসি) চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শিগগিরই এই নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা প্রদান প্রক্রিয়া অধিকতর সহজীকরণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় দেশের বর্তমান বাণিজ্যিক পরিস্থিতি, নীতিগত সংস্কার এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সরকারের কাছে যৌক্তিক দাবি উপস্থাপনে এফবিসিসিআই-এর ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে নীতিগত সহায়তা নিশ্চিতে সংগঠনটিকে প্রয়োজনে গঠনমূলক চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তবে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, এফবিসিসিআই-কে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না। সংগঠনটিকে প্রকৃত অর্থে সকল ব্যবসায়ীর একটি সম্মিলিত এবং অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও উল্লেখ করেন যে, এফবিসিসিআই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রদান করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখাই হবে এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনটিকে গতিশীল করতে যোগ্য, দূরদর্শী এবং উদ্যমী নেতৃত্বের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এফবিসিসিআই-এর নেতৃত্ব অবশ্যই প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে আসতে হবে। ব্যবসায়ী সমাজ যাতে তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় এই সংগঠনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, সরকার তা নিশ্চিত করবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেন। এছাড়া সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এফবিসিসিআই-কে একটি আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রতিনিধিরা বিশেষ করে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে ব্যবসায়ী সমাজ থেকে অভিজ্ঞ একজনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি উত্থাপন করেন, যাতে সংগঠনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
সভায় অংশ নেন বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং সাবেক পরিচালক নাসরিন ফাতেমা আউয়াল। এছাড়া আব্দুল হক, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও স্থানীয় উৎপাদন উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষিত নতুন কমিটি গঠন এবং আমদানি নীতির সংস্কার দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের বাণিজ্য খাতের বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।