জাতীয় ডেস্ক
দেশের টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অমূল্য সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাদের জ্ঞান, মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রম বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাচ্ছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের টেমসাইড কাউন্সিলের সিভিক মেয়র কাউন্সিলর শিবলি আলম সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রবাসীদের অবদান এবং বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “ইংল্যান্ড হচ্ছে আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা কেবল নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেই অবদান রাখছেন না, বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রেও অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখছেন, যা প্রশংসার দাবিদার।”
বৈঠকে ম্যানচেস্টারের টেমসাইড কাউন্সিলের সিভিক মেয়র শিবলি আলম বাংলাদেশে গত এক দশকে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অর্জিত অভূতপূর্ব সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, রাজনীতি এবং কর্মক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধন করেছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয়। শিবলি আলম আশা প্রকাশ করেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বাংলাদেশের নারীরা আগামীতে আরও জোরালো নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করবেন।
আলোচনা চলাকালে কাউন্সিলর শিবলি আলম বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় কাজ করার বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এদেশের নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের আইনি ও সামাজিক অধিকার আরও সুসংহত করতে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও কারিগরি শিক্ষা প্রসারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন হতে পারে।
সাক্ষাৎ শেষে তথ্যমন্ত্রী এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলর উভয়ই বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার বিষয়ে পারস্পরিক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক খাতেও এই সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে এবং প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে।